ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি হাসপাতালে টিকা না থাকায় তারা বেসরকারি ফার্মেসিগুলোতেও খোঁজ নিয়েছেন। কিন্তু ৫০০ টাকার টিকা ১ হাজার টাকা দিয়েও কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা না পেলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় রোগী ও স্বজনদের আতংক দিন পাড় করছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ থেকে চারশ কুকুর, বিড়াল ও সাপের কামড়ের ভ্যাকসিন প্রয়োজন হয়।
সরজমিনে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন জলাতঙ্কে আক্রান্ত রোগী টিকার আশায় হাসপাতালে ভিড় করছেন।
সদর উপজেলা শিয়ালকোল ইউনিয়ন এলাকা থেকে আসা রোগীর স্বজন মাহবুব চৌধুরী জানান, আমার আত্মীয়ের জন্য আজ ঢাকায় লোক পাঠিয়ে টিকা আনতে হয়েছে। এখানে কোথাও পাওয়া যায়নি।
কাজিপুর উপজেলা থেকে আসা জুরান আলী জানান, আমার ছেলেকে কুকুর আঁচড় দিয়েছে। উপজেলা হাসপাতাল থেকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এখানে এসে দেখি টিকা নেই, বাহিরেও পাওয়া যাচ্ছে না।
জলাতঙ্ক টিকা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা নার্স আয়শা জানান, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর থেকেই ভ্যাকসিন শেষ হয়ে গেছে। ঢাকায় একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখনো ভ্যাকসিন আসেনি। আগে রোগীরা বাহির থেকে ভ্যাকসিন এনে দিতেন, কিন্তু এখন বাহিরেও টিকা পাওয়া যাচ্ছে না।
জেলা ভ্যাকসিন স্টোর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে ৫০০ ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়া গিয়েছিল। সিভিল সার্জন স্যারের নির্দেশে উপজেলা পর্যায়ে ৫০টি করে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এটি খুবই অপ্রতুল। ঢাকাতেও বর্তমানে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকট রয়েছে।
সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আকিকুর নাহার জানান, প্রায় এক মাস ধরে হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নেই। সরকারি-বেসরকারি কোথাও ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছে।
তবে জেলা সিভিল সার্জন নুরুল আমীন ভিন্ন দাবি করে বলেন, জেলায় জলাতঙ্কের ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই।
সদ্য সংবাদ/শুভ সেখ