সিলেট-৩ আসনের একটি কেন্দ্রে ঢুকে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে জালভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক। দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনের বালাগঞ্জ উপজেলার একটি কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে।
বুধবার রাতে বালাগঞ্জ উপজেলার পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়নের মৈশাষী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তারিকুল ইসলামসহ কয়েকজন ব্যক্তি কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এ সময় কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থানরত বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ঘেরাও করেন।
ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত, সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে রয়েছে। তিনি বলেন, ঠিক কী ঘটেছে সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
স্থানীয়দের আরও দাবি, প্রিসাইডিং অফিসারের কার্যালয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল মালিক বলেন, তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তার অভিযোগ, রাত ১১টার দিকে প্রিসাইডিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা সিল মারা শুরু করেন। তিনি একে ‘ব্ল্যাক ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে ১১-দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুসলেহ উদ্দীন রাজু অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। তার দাবি, এজেন্ট কার্ড দেওয়ার কথা বলে তাদের লোকজনকে ফোন করে ডেকে নেওয়া হয়। কার্ড গ্রহণ করে স্বাক্ষর করার সময়ই তাদের ঘেরাও করে জালভোট দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ এনে হেনস্থা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলেও ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত হয়েছেন। কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে।