অধিবেশনের শুরুতেই সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত বক্তব্য দেবেন। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর তিনি কোনো একজন জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যকে বৈঠকে সভাপতিত্ব করার আহ্বান জানাবেন। ওই সদস্যের সভাপতিত্বেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর এটাই প্রথমবার স্পিকারের পদ শূন্য রেখে সংসদের প্রথম বৈঠক বসছে। এর আগে সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু মামলার আসামি হয়ে কারাগারে থাকায় এবার সেই প্রচলিত প্রথা অনুসরণ করা সম্ভব হয়নি।
স্পিকার নির্বাচন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর হাতে
ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংসদ নেতা তারেক রহমানকে। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই এই দুটি পদে নির্বাচিত হয়ে থাকেন।
তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জুলাই সনদেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছিল।
কিন্তু বিরোধী দল জামায়াত বলছে, তারা খণ্ডিতভাবে কোনো সিদ্ধান্ত চায় না। দলটির আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদের সব বিষয় একসঙ্গে বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই তারা দায়িত্ব পালন করতে চান।
‘জুলাই সনদ’ নিয়ে সরকার–বিরোধী দ্বন্দ্ব
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’। গণভোটে পাস হওয়া এই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চায় বিরোধী দলগুলো। অন্যদিকে সরকার নোট অব ডিসেন্টসহ সনদ বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে।
বিশেষ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার কাঠামো, সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন এবং কয়েকটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ সংসদে
প্রথম দিনেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এগুলো উত্থাপন করবেন। পরে সেগুলো যাচাই–বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।
প্রথম দিনের সম্ভাব্য কার্যক্রম
সংসদের প্রথম দিনের বৈঠকে সাধারণত নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয় এবং কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হয়। পরে রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ দেন।
তবে এবার বিরোধী দল রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা সংসদের বৈঠক কক্ষে না থেকে লবিতে অবস্থান নিতে পারে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব আলোচনা, অধ্যাদেশ উত্থাপন এবং কার্যোপদেষ্টা কমিটিসহ কয়েকটি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।
আওয়ামী লীগ ছাড়া তৃতীয় সংসদ
ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি অংশ নিতে পারেনি।
ফলে আওয়ামী লীগ ছাড়াই তৃতীয়বারের মতো সংসদ শুরু হতে যাচ্ছে। এর আগে ১৯৮৮ সালের চতুর্থ সংসদ ও ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদেও দলটি সংসদে ছিল না।
সংসদের আসন বণ্টন
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছে। বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করেছে। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন।
এ ছাড়া এনসিপি পেয়েছে ছয়টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি, খেলাফত মজলিস একটি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসন পেয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন সাতটি আসনে।
চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফল আদালতের নির্দেশে স্থগিত থাকায় ওই দুই প্রার্থী এখনো শপথ নিতে পারেননি।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সংসদ সদস্যদের প্রায় ৭৬ শতাংশই নতুন। তাই নতুন সদস্যদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।