এর আগে, আজ দুপুরে পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট জমা দেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত চার্জশিটটি গ্রহণ করে মামলাটি পরবর্তী বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। ঘটনা ঘটার মাত্র কয়েকদিনের মাথায় পুলিশ এই মামলার দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলো।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে নিজ ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজেদের রুমে ডেকে নেন।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার স্কুলে যাওয়ার সময় হলে তার মা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের ওই আসামির রুমের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা মিলে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং ঘরের ভেতরের একটি বড় বালতিতে তার কাটা মাথা উদ্ধার করা হয়।
খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতারের পর গত ২০ মে আসামি সোহেল রানা আদালতে হাজির হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ঘটনার পূর্বে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
সোহেল আদালতকে জানান, ১৯ মে সকালে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না তাকে ঘরে ডেকে নেন। এরপর সোহেল শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের শিকার হয়ে রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই মুহূর্তেই রামিসার মা বাইরে থেকে দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল তাৎক্ষণিক রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করেন।
এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করে বালতিতে লুকিয়ে রাখা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহটি খাটের নিচে ঠেলে দেওয়া হয়। এই পুরো নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা আরও জানায়, ভুক্তভোগী শিশু বা তার পরিবারের সঙ্গে তাদের পূর্ব শত্রুতা ছিল না। কেবল পাশবিক লালসা ও মাদকাসক্তির কারণেই এই ভয়াবহ অপরাধ ঘটিয়েছেন তিনি।