হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ১১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলা আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ‘শেষ সুযোগ’ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন।
রেজা মোগাদাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করায় তেহরানের জনমনে সংশয় ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবু বৃহত্তর শান্তির স্বার্থে ইরান তাদের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা দাবির’ ভিত্তিতে আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কৌশলগত বিরোধ এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে থেকে গেছে।
ইরান পূর্বেও হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে অনুমতি ছাড়া এই জলপথ অতিক্রম করলে জাহাজ ধ্বংস করা হবে। লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য একটি সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রকাশ্যে কঠোর হলেও একান্ত আলোচনায় ইরানের সুর নরম।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’–এর মাধ্যমে ইরানের নৌবাহিনী, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আলোচনায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
যদিও ইরান তাদের ১০ দফা দাবিতে অনড়, যুক্তরাষ্ট্র তা নাকচ করেছে। তবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের চলাচল স্বাভাবিক রাখা শান্তি চুক্তির অন্যতম মূল শর্ত হওয়ায় দুই পক্ষই সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শেষ হবে নাকি নতুন সংঘাতের সূচনা হবে, তা নির্ধারণ করবে।
সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স