চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত কেন্দ্রকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। এ সময় জেলা নির্বাচন কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নীলফামারীর চারটি সংসদীয় আসনে মোট ৫৬২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬৪টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭১টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ১৯৩টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান জানিয়েছেন, সব কেন্দ্রে সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একই জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ৭৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে ১১৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচনে তিন প্লাটুন সেনাবাহিনী, দুই প্লাটুন বিজিবি, এক প্লাটুন র্যাব, প্রায় তিন শতাধিক পুলিশ সদস্য ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। সব কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
বরগুনা-২ আসনের বেতাগী উপজেলায় ৪২টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে এসব কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ, আনসার, মোবাইল টিম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন। পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে।
ভোলা-৩ আসনের তজুমদ্দিন উপজেলায় ৩৬টি ভোটকেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্গম চরাঞ্চল ও সীমান্তবর্তী অবস্থানের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা নির্বাচন অফিস।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় বডিওর্ন ক্যামেরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশের মোবাইল টিম ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে সক্রিয় থাকবেন।
জামালপুর-৩ (মাদারগঞ্জ-মেলান্দহ) আসনে মোট ১৫৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬২টি ঝুঁকিপূর্ণ। মাদারগঞ্জ উপজেলায় ৬২টির মধ্যে ৪২টি এবং মেলান্দহে ২০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দুর্গম এলাকা ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে কিছু ইউনিয়নের সব কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় বডিওর্ন ক্যামেরাসহ অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ৮২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৫টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসার, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স টহলে থাকবে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকিতে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় ভোটের আগে, ভোটের দিন ও পরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সারাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।