রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) জালিস্কো প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে এল মেনচোর সমর্থকদের ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত হলে তাকে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে নেওয়া হয়। পরে সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
অভিযান চলাকালে জালিস্কো প্রদেশের তাপালপা শহরে সিজেএনজি’র আরও চার সদস্য নিহত হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য আহত হন। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষ বাহিনীর সুপরিকল্পিত অভিযানের মাধ্যমে এই অপারেশন পরিচালিত হয়। অভিযানে তথ্যগত সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এল মেনচোর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির অন্তত আটটি প্রদেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। সিজেএনজি’র সদস্যরা বিভিন্ন শহরে গাড়িতে আগুন দেয়, সড়ক অবরোধ করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। আল জাজিরা জানায়, অর্ধ ডজনের বেশি শহরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতির অবনতির কারণে কয়েকটি অঞ্চলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
৫৯ বছর বয়সী এল মেনচো একসময় মেক্সিকোর পুলিশ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পরে তিনি দেশটির অন্যতম শক্তিশালী অপরাধ চক্র গড়ে তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন, মেথামফেটামিন ও ফেন্টানাইল পাচারের অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। তাকে গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে ১৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এল মেনচোর মৃত্যু মেক্সিকোর মাদক কার্টেল জগতে বড় ধরনের ক্ষমতার লড়াই ও সহিংসতা বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।