সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত সম্রাট সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লার মৃত সালামের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ভবঘুরের মতো ঘোরাফেরা করতেন। তার কথাবার্তা ও আচরণ ছিল অগোছালো, যে কারণে স্থানীয়রা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে মনে করতেন।
রোববার দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় সম্রাট ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, ওই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকেই গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম বলেন, “সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি প্রকৃত অর্থে পাগল নন। তিনি একজন সাইকো টাইপের মানুষ। একে একে ছয়টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। হত্যার পর তিনজনের মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত মাত্র একজন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।”
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ড ঘটান ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে। সেদিন সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন তিনি। পরে ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনে এক যুবককে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন।
সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন বলেন, 'কমিউনিটি সেন্টারে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সেখানে আরও এক ভবঘুরে নারীকে দেখা গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছেন, তাকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল তার।'
তিনি আরও বলেন, 'সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরতেন। অস্বাভাবিক আচরণের কারণে সবাই তাকে পাগল ভাবলেও তিনি আসলে খুব পরিকল্পিতভাবে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।'
পুলিশ জানায়, রিমান্ড মঞ্জুর হলে সম্রাটকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও তার সঙ্গে আরও কোনো অপরাধ বা সহযোগী জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।