প্রধানমন্ত্রীর আগমনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সকাল থেকেই সচিবালয় এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে তল্লাশির পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে প্রবেশ করছেন।
নতুন ১ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় সুসজ্জিত কার্যালয়ে প্রথম কার্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিকেল ৩টায় নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। একই ভবনের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। যদিও এটি মূলত পরিচিতিমূলক, তবে সরকারের প্রাথমিক অগ্রাধিকার ও নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কৌশল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হতে পারে।
বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন, যেখানে প্রশাসনের কার্যকারিতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে।
নতুন মন্ত্রিসভাকে স্বাগত জানাতে সচিবালয়ের প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। করিডোরগুলোতে নতুন ফুলের টব বসানো হয়েছে এবং পুরো এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখা হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের নামফলক সরিয়ে নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের নাম ও পদবি সংবলিত ফলক বসানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের ডগ স্কোয়াড বিভিন্ন ভবনের নিচতলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ১ নম্বর ভবনের সামনে বিশেষ আর্চওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে ৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভাও শপথ গ্রহণ করে এবং রাতে দপ্তর বণ্টনসহ আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
শপথ গ্রহণের পর আজ সকালেই প্রধানমন্ত্রী সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং সরাসরি সচিবালয়ে যোগ দেন। আজ সন্ধ্যা ৭টায় তিনি জাতির উদ্দেশে তার প্রথম ভাষণ দেবেন, যেখানে নতুন সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হতে পারে।