গত ১ মে জেলা ছাত্রদলের ৪৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এতে স্বাক্ষর করে অনুমোদন দেন। নতুন ও পুরাতনদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিকে জেলা ছাত্রদলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কমিটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও রয়েছে ১ জন সিনিয়র সহ-সভাপতি, ১ জন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ১ জন সাংগঠনিক সম্পাদক, ৩৩ জন সহ-সভাপতি, শতাধিক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৮৬ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক, অর্ধশতাধিক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, ৩১ জন বিষয়ক সম্পাদক, ৩১ জন সহ-সম্পাদক এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া নিলয় আহমেদ নয়ন একটি মাদক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে জামালপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে এবং তিনি একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন।
এছাড়া কমিটিতে অর্ধশতাধিক বিবাহিত ব্যক্তি রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সহ-সভাপতি পদ পাওয়া মিথুন খান, যার সন্তানের বয়স প্রায় ১০ বছর, তাদের মধ্যে অন্যতম।
কমিটিতে প্রবাসীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বর্তমানে রাশিয়ায় এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক রাকিব হাসান মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। এছাড়া বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার না হলেও অমিত হাসান রবিনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে, যিনি বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন।
একাধিক পদে একই ব্যক্তির অবস্থান নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। বুলবুল আহমেদ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পাশাপাশি ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও শহর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, কমিটির কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগঘেঁষা। তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মীদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সংগঠনে যোগ দেওয়া কিছু ব্যক্তিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে।
এসব অনিয়মের প্রতিবাদে ইতোমধ্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পাওয়া মো. সাইদুল মুরসালিন সাদ্দাম পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, 'ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। অছাত্র ও নতুনদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এমন কমিটিতে থাকা সম্ভব নয়।'
একই ধরনের অভিযোগ তুলে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব তন্ময় বলেন, 'এত বড় কমিটি করায় এটি সমন্বয়হীন হয়ে গেছে। এখানে অছাত্র, বিবাহিত এমনকি আওয়ামী লীগঘেঁষা ব্যক্তিরাও জায়গা পেয়েছেন। প্রটোকল মানা হয়নি।'
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নেতা বলেন, 'এই কমিটিতে পদ পাওয়া এখন লজ্জার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই সরাসরি জেলা পর্যায়ের পদ পেয়েছেন, যাদের আগে কোনো সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ছিল না।'
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আতিকুর রহমান সুমিল বলেন, 'দীর্ঘদিন পর একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে কমিটি বড় হয়েছে। এখানে ত্যাগী নেতাকর্মীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'কমিটিতে ছাত্রলীগের কোনো পদধারী নেই। প্রবাসীদের মধ্যে একজনকে তার আন্দোলন-সংগ্রামে সম্পৃক্ততার কারণে রাখা হয়েছে।'
জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, 'কেউ আন্দোলনে সক্রিয় থাকলে বিবাহিত হওয়া কোনো বাধা নয়। অছাত্র থাকার অভিযোগও সঠিক নয়। সিনিয়র-জুনিয়রের সমন্বয়ে কমিটি করা হয়েছে।'