দেশের চলমান সংকটগুলোকে রাজনৈতিক বিরোধের হাতিয়ার না বানিয়ে সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দলের কর্মকাণ্ডেরও জনসম্মুখে মূল্যায়ন হওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব কথা বলেন।
রাশেদ খানের মতে, গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি পক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে, অন্যদিকে আরেকটি পক্ষ বিরোধী অবস্থানে থেকে রাজনীতি করছে। তাই রাষ্ট্রের পুনর্গঠন ও জনগণের স্বার্থে উভয় পক্ষকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ছয় মাসের কাজের মূল্যায়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি বিরোধী দল জাতীয় স্বার্থে কী ধরনের ভূমিকা রাখছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। বিশেষ করে সংকটপূর্ণ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মকাণ্ড মানুষের জীবনযাত্রা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কী প্রভাব ফেলছে, তা দেখা জরুরি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে রাশেদ খান দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব সমস্যা তৈরি হয়নি। দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক দায়ের প্রভাবেই বিদ্যমান সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য, এই বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা। অতীতের দায় নিয়ে বিতর্ক বাড়ানোর চেয়ে সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপে সহযোগিতা করা বেশি জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, আগের সময়ে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে বর্তমান সরকারের জন্য দায়িত্ব পালনের পথ আরও সহজ হতো।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় সমস্যা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। এমন কোনো কর্মকাণ্ড করা উচিত নয়, যাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় কিংবা চলমান পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
রাষ্ট্র পুনর্গঠন এবং জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনপির এই নেতা।
সদ্য সংবাদ/এসকে