ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে দেশের মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা ও গির্জায় বিশেষ বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশজুড়ে পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরুর আগে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি। প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সমন্বয় নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
প্রচারিত বার্তায় জানানো হবে, সরকারের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও পরিচয়পত্রধারী কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য পর্যালোচনা করে কোন পরিবার সরকারি সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি অগ্রাধিকার পাবে, তা নির্ধারণ করা হবে। এ কারণে তথ্যদাতাদের পরিবারের প্রকৃত আর্থসামাজিক অবস্থা তুলে ধরে নির্ভুল তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
মসজিদগুলোতে জুমার নামাজের আগে তিন মিনিটের ঘোষণায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম সম্পর্কে জানানো হবে। একই সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্ক করা হবে মুসল্লিদের। কার্ডের তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কেউ টাকা চাইলে তাঁর কথায় বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তথ্য দিতে কোনো অর্থ লাগে না, সেটিও স্পষ্টভাবে জানানো হবে।
অন্যদিকে, মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারে দুই মিনিটের ঘোষণার মাধ্যমে সঠিক তথ্য দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। তথ্য সংগ্রহের সময় যাতে কোনো পরিবার বাদ না পড়ে, সে জন্য বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নেওয়ার আহ্বানও জানানো হবে।
প্রচারবার্তায় কেউ অর্থ দাবি করলে ১০৯৮ নম্বরে জানানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিসংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণে নম্বরটির ব্যবহার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সোমবার ১২ অক্টোবর থেকে সারা দেশে একযোগে থানা ও পরিবার পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্যভাণ্ডারের তথ্য সংগ্রহ নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/ এআর