জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে আইন প্রণয়নের কার্যক্রম শুরুর পর বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে অধিবেশন থেকে বেরিয়ে গেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
রাত ৮টার দিকে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকে দিনের নির্ধারিত কার্যসূচি অনুযায়ী আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধীদলের অবস্থান তুলে ধরেন।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটে দেওয়া রায়ের বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় উঠে আসে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিল সংসদে পৃথকভাবে উত্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানায় বিরোধীদল।
বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এরপর বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা একে একে সংসদকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
ওয়াকআউটের পর সংসদ ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলসহ মোট তিনটি বিল সংসদে উত্থাপনের জন্য আনা হয়েছিল। এসব বিল নিয়ে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে তাদের আপত্তি ও অবস্থান সংসদে তুলে ধরা হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলো বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়ন না করে একটি সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর বিষয়েও একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিরোধীদল।
তিনি অভিযোগ করেন, এসব বিষয়ে এর আগেও বিরোধীদল সংসদে পর্যাপ্তভাবে কথা বলার সুযোগ পায়নি। তার ভাষ্য, সংসদ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকার ও স্পিকার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ আরও বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই তাদের সংসদ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। একই সঙ্গে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানান তিনি।
তার দাবি, সংস্কার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাব বাস্তবায়নের পাশাপাশি গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়ও কার্যকর করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গুরুত্বপূর্ণ যেসব অধ্যাদেশ পরবর্তী সময়ে বাতিল হয়েছে, সেগুলোও পুনর্বিবেচনা করে আইনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস