অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে বৃক্ষনিধনের প্রবণতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর পরিচর্যা ও নিরাপত্তায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাঁচগাঁও সীমান্ত সড়ক এলাকায় পূবালী ব্যাংক পিএলসির আয়োজনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকার বা প্রশাসনের ওপর ছেড়ে দিলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব নয়। গাছ লাগানোর পর সেগুলোকে টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা, উপকারভোগী ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
বৃক্ষরোপণকে পারিবারিক ও সামাজিক চর্চায় পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবারের বিশেষ দিনগুলোকে স্মরণীয় করে রাখতে সন্তানের নামে একটি করে গাছ লাগানো যেতে পারে। এতে সন্তানের বেড়ে ওঠার সঙ্গে গাছটিরও বড় হয়ে ওঠার একটি আবেগঘন সম্পর্ক তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, সড়কের পাশে কিংবা গ্রামাঞ্চলে রোপণ করা গাছ থেকে ছায়া, ফল ও কাঠের মতো নানা সুবিধা পাবেন স্থানীয়রাই। তাই এসব গাছের সুরক্ষার দায়িত্বও তাদের নেওয়া প্রয়োজন।
পরিবেশ সংরক্ষণে বিদেশের কয়েকটি দেশের উদাহরণ তুলে ধরে কায়সার কামাল বলেন, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বৃক্ষরোপণ এবং গাছের পরিচর্যায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও রয়েছে। বাংলাদেশেও নাগরিকদের এ বিষয়ে আরও সক্রিয় হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর শুধু বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করলেই হবে না, একইসঙ্গে গাছের পরিচর্যা, বেড়ে ওঠা এবং টিকে থাকার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ বাড়ানো জরুরি।
অনুষ্ঠানে কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আবদুল্লাহ আল-মামুন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং পূবালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয় ও কলমাকান্দা উপশাখার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সদ্য সংবাদ/এসএস