ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে তৈরি হয়েছে অবৈধ পারাপারের পথ। কোথাও আবার সড়ক বিভাজকের মাঝখানে বসানো হয়েছে লোহার সিঁড়ি। এসব পথ ব্যবহার করে পথচারীসহ বিভিন্ন মানুষ ঝুঁকি নিয়ে এক্সপ্রেসওয়ে পার হচ্ছেন। ফলে দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা ও গাজীপুরের যানজট ও পরিবহন দুর্ভোগ কমানোর পাশাপাশি রাজধানীর ওপর দিয়ে ভারী যানবাহনের চাপ কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে। তবে নিরাপদ পারাপারের নির্ধারিত ব্যবস্থা এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে মানুষের এমন ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) গাজীপুর সদর উপজেলার মৈরান এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, বিসমিল্লাহ কালাভুনা রেস্টুরেন্টের সামনের অংশসহ এক্সপ্রেসওয়ের কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বেষ্টনীর তার কাটা রয়েছে। সেই ফাঁকা অংশ দিয়েই এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাতায়াত করছেন পথচারীরা।
বিশেষ করে রেস্টুরেন্টে আসা-যাওয়া করা মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা বেশি দেখা গেছে। ব্যস্ত ও দ্রুতগতির এই সড়কে যানবাহনের গতির মধ্যে পথচারীদের এভাবে হঠাৎ সড়কে উঠে পড়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নির্দিষ্ট পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় বা তা ব্যবহার করতে অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হওয়ায় অনেকে কাছের পথ হিসেবেই কাটা বেষ্টনীর জায়গা ব্যবহার করছেন। তবে এ ধরনের পারাপার যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, সে বিষয়েও তারা অবগত।
সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের মতে, এক্সপ্রেসওয়ের মতো দ্রুতগতির সড়কে পথচারীদের অননুমোদিত পারাপার অত্যন্ত বিপজ্জনক। কাটা বেষ্টনী দিয়ে পারাপারের সুযোগ থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। তাই এসব জায়গা দ্রুত শনাক্ত করে বেষ্টনী মেরামত এবং অবৈধ পারাপার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
একই সঙ্গে যেখানে মানুষের নিয়মিত যাতায়াতের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (RHD) অফিসিয়াল ডিরেক্টরিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী ঢাকা বাইপাস এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ আসলাম আলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে দ্রুত কাটা নিরাপত্তা বেষ্টনী সংস্কার, অননুমোদিত পারাপার বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সদ্য সংবাদ/এসএস