ঢাকার একটি আদালতে পুলিশ কর্মকর্তাকে ডেকে নিয়ে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ঘটনার প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চেয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী ঢাকা রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী। তার দাবি, মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারকের খাস কামরায় তাকে একা ডেকে নেওয়ার পর সেখানে একজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন।
ঘটনার পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। একই সঙ্গে পুলিশ কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতি ও আইনমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে ঢাকা রেলওয়ে থানার আওতাধীন একটি প্ল্যাটফর্মে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট সন্ধ্যায় শহরতলীর রেলওয়ে প্ল্যাটফর্মে পুলিশ সদস্যরা যাত্রীদের ব্যাগ তল্লাশি করছিলেন। এ সময় সাকিব আল হাসান নামে এক ব্যক্তি তল্লাশি নিয়ে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
পরে তাকে থানায় নেওয়া হলে তিনি নিজেকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দেন। সংশ্লিষ্ট বিচারকের সঙ্গে কথা বলার পর সেদিনের বিষয়টি মীমাংসা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে থানা থেকে বের হওয়ার সময় ওই ব্যক্তি পুলিশ কর্মকর্তাদের আদালতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে দাবি এসআই মোহাম্মদ আলীর। বিষয়টি পরে থানার সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দেখা করেন মোহাম্মদ আলী। পরে তাকে অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারকের সঙ্গে সাক্ষাতের পরামর্শ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে কয়েকজন আইনজীবী ও সাংবাদিক প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বিচারকের খাস কামরার সামনে যান তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, সঙ্গীদের বাইরে রেখে তাকে একাই কক্ষে ঢুকতে দেওয়া হয়।
মোহাম্মদ আলীর ভাষ্য, কক্ষে প্রবেশের পর দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের মধ্যে একজন পেছন থেকে তার ওপর হামলা চালান। আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। এ সময় তিনি বিচারকের কাছে বিষয়টি জানতে চান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার একটি ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিজের এবং পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা।
এসআই মোহাম্মদ আলী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
ঘটনার পর তিনি মিটফোর্ড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান।
অভিযোগে হামলাকারীকে আদালতের উমেদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার নাম জানাতে পারেননি অভিযোগকারী। তাকে সামনে পেলে শনাক্ত করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস