সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি জানান, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও পরদিন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিপিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শাপলা চত্বরের মামলায় দেশের বাইরে অবস্থান করা কোনো পলাতক আসামিকে ফেরাতে এটি প্রথম আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ। তাঁর দাবি, জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য কোনো দেশে অবস্থান করছেন বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাঁকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এ মামলায় বিদেশে অবস্থানরত অন্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলার আসামিদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং কয়েকজন সাংবাদিকের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের দাবি, মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আন্তর্জাতিক আইনগত সহযোগিতার অংশ হিসেবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে