ইসরাইলকে প্রতিবছর দেওয়া কয়েকশ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই এ সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ করতে চান তিনি। ট্রাম্পের যুক্তি, সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরাইল এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী। তাই দেশটির আর মার্কিন অর্থের ওপর নির্ভরশীল থাকার প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অর্থায়ন অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখছেন না তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র। দেশটিকে অন্যান্য অনেক রাষ্ট্রের তুলনায় বেশি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা ও সামরিক চাহিদা পূরণের সক্ষমতা ইসরাইলের তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিবছর ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০২৮ সালে চুক্তিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্থায়ন বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই সহায়তার অর্থ মূলত মার্কিন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার কাজে ব্যবহার করে ইসরাইল। ফলে অর্থায়ন বন্ধ হলে দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতের প্রচলিত সহযোগিতা ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আসতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তার সমঝোতা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এদিকে, ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকান দলের একটি অংশ থেকেও এ সহায়তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক মার্কিন আলোচক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ইসরাইল ইস্যু এখন রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও মতবিরোধের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ট্রাম্পের এই অবস্থান বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কয়েক দশকের সামরিক সহযোগিতায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এজে