ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘লাল হিট জনতা পার্টি’। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) কর্মসূচির বিরোধিতা করে আত্মপ্রকাশ করা সংগঠনটি ভারতের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দিল্লির মালব্য স্মৃতি ভবনে আয়োজিত এক সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলটির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।
সমাবেশে লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা অভিযোগ করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন দলের বিক্ষোভ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচির প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক জনজীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও।
সংগঠনটির প্রধান অয়ন ভাটনগর বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা রক্ষার লক্ষ্য থেকেই তাঁদের এই উদ্যোগ। তাঁর ভাষ্য, কোনো দাবির পক্ষে বড় জমায়েত হলেই তা মেনে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হয় না। নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এভাবে একের পর এক সাংবিধানিক পদধারীর পদত্যাগ দাবি করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
ভারতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতি নিয়েও বক্তব্য দেন ভাটনগর। ২০২৩ সালে চালু হওয়া নিয়োগব্যবস্থায় বিরোধী দলের প্রতিনিধির অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বর্তমান সিইসির পদত্যাগ দাবি করার আগে নিয়োগপ্রক্রিয়া ও পূর্ববর্তী কমিশনপ্রধানদের দায়িত্ব পালনের ইতিহাস বিবেচনার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, বিক্ষোভের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির অভিযোগও তোলেন সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা। সাংবাদিক পবনের দাবি, আন্দোলনের প্রভাবে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি রুপি। তাঁর আশঙ্কা, পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এই অঙ্ক ১০ হাজার কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। তবে সমাবেশে এসব হিসাবের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে নৃত্যশিল্পী রিচা গুপ্ত ভারতের জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি সরাসরি জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন লাল হিট জনতা পার্টির নেতারা। তাঁদের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও জাতীয় ঐক্যের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে রাজপথেও সক্রিয় থাকা প্রয়োজন।
নতুন সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ভারতের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধী পক্ষের আন্দোলনের বিপরীতে সংগঠনটির অবস্থান দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
সদ্য সংবাদ/এসএস