ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ভয়াবহ অস্থিরতায় রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, লুটপাট ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে গত এক মাসে আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার পর্যন্ত বিক্ষোভে সহিংসতা ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ হাজার ৩৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীর মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্যেও। খুচরা ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠনের হিসাবে, প্রায় দেড় হাজার দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশেই লুটপাট চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রধান আলেকজান্দ্রে বোম্পার। তাঁর ধারণা, ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কয়েক শ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। তবে এখনো পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বিক্ষোভের নামে ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
শহর, সরকারি স্থাপনা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন ও মেয়রদের সঙ্গে সমন্বয়ের নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে জনঅসন্তোষের সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবি যুক্ত হওয়ায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়েছে। তবে প্রতিবাদের সঙ্গে সহিংসতা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা যুক্ত হওয়ায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: ফ্রান্স ২৪, ফার্স্টপোস্ট
সদ্য সংবাদ/এসএস