ঘণ্টায় ১৬৫ কিলোমিটার বেগে এগিয়ে আসছে হারিকেন ‘ইসাইয়াস’। ঝড়টির সম্ভাব্য আঘাত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, আলাবামা ও মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় শক্তি বাড়িয়ে ক্যাটাগরি-২ হারিকেনে রূপ নিয়েছে ‘ইসাইয়াস’। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, স্থলভাগে পৌঁছানোর আগে ঝড়টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
মিয়ামিভিত্তিক ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শুক্রবার গভীর রাতে অথবা শনিবার ভোরে ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে। এ সময় ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেল অঞ্চল, দক্ষিণ আলাবামা ও দক্ষিণ মিসিসিপিতে পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
হারিকেনটির সর্বোচ্চ একটানা বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০৫ মাইল বা প্রায় ১৬৫ কিলোমিটার। এটি ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে এগোচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টির অবস্থান মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে প্রায় ৩৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে।
ঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথ বিবেচনায় মিসিসিপির ওশান স্প্রিংস থেকে ফ্লোরিডার বে-গালফ কাউন্টি সীমান্ত পর্যন্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি মিসিসিপি নদীর মোহনা থেকে সুওয়ানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলেছে কর্তৃপক্ষ। সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনার আওতায় রয়েছে ওকালুসা দ্বীপ, ফোর্ট ওয়ালটন বিচের উপকূলীয় কিছু অংশ, ডেস্টিন, মেরি এস্থার ও নাইসভিল এলাকা। বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলের বাসিন্দাদের জরুরি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পরিচালক মাইকেল ব্রেনান সতর্ক করে বলেছেন, স্থলভাগে আঘাত হানার সময় ‘ইসাইয়াস’ অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। ঝড়টি উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে উত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে উপকূলীয় এলাকায় পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসকে