মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে একসঙ্গে কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে পাকিস্তান। এরই অংশ হিসেবে দেশটির প্রথম নিজস্ব চন্দ্র রোভার ‘জিন্নাহ-১’ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। চীনের চাং’ই-৮ চন্দ্র অভিযানের সঙ্গে রোভারটি চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্ব মহাকাশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তান স্পেস অ্যান্ড আপার অ্যাটমসফিয়ার রিসার্চ কমিশন সুপারকোর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্যাটেলাইট প্রযুক্তির ব্যবহার এরই মধ্যে কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিস্তৃত হয়েছে।
সুপারকোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ কেজি ওজনের ‘জিন্নাহ-১’ রোভারটি চাঁদের পৃষ্ঠে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহ করবে। চাঁদের মাটি, ভূপ্রকৃতি ও পরিবেশ নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিও এতে পরীক্ষা করা হবে। চীনের চাং’ই-৮ মিশনের সঙ্গে রোভারটি পাঠানোর লক্ষ্য ২০২৮ সাল।
চাঁদকেন্দ্রিক এই কর্মসূচির পাশাপাশি পৃথিবী পর্যবেক্ষণেও নিজেদের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে পাকিস্তান। সুপারকোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ছয়টি আর্থ-অবজারভেশন স্যাটেলাইট কৃষি, নগর ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ মোকাবিলা, পানিসম্পদ ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এর আগে ২০২৪ সালে চীনের চাং’ই-৬ মিশনের সঙ্গে পাকিস্তানের ‘আইকিউব-কামার’ চন্দ্র স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি পাকিস্তানের প্রথম চন্দ্রকক্ষপথে পাঠানো স্যাটেলাইট।
এদিকে চীনের মহাকাশ স্টেশনে পাকিস্তানের প্রথম নভোচারী পাঠানোর প্রস্তুতিও চলছে। এ লক্ষ্যে দুই পাকিস্তানি পাইলট জিশান আলী ও খুররম দাউদ বর্তমানে বেইজিংয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। তাদের প্রশিক্ষণে চীনা ভাষা, মহাকাশযানের বিভিন্ন ব্যবস্থা, শূন্য মাধ্যাকর্ষণে কাজ এবং উৎক্ষেপণের সময়ের তীব্র চাপ মোকাবিলার অনুশীলন রয়েছে।
দুই প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে। সুপারকোর কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগের মধ্যে এ নির্বাচন হতে পারে। নির্বাচিত ব্যক্তি চীনের তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশনে ‘পেলোড স্পেশালিস্ট’ হিসেবে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় অংশ নেবেন।
চীন ও পাকিস্তানের এই মহাকাশ সহযোগিতার আওতায় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ, নেভিগেশন প্রযুক্তি, চন্দ্র গবেষণা এবং মানব মহাকাশযাত্রার মতো একাধিক কর্মসূচি এগিয়ে চলছে। ফলে মহাকাশ গবেষণায় পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এখন কেবল স্যাটেলাইট কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে চন্দ্র অনুসন্ধান ও মানব মহাকাশযাত্রার দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।
সূত্র: সামা টিভি
সদ্য সংবাদ/এসএস