ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কার্যক্রম নিয়ে অনিয়ম ও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার যন্তর মন্তরে এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হলে নিরাপত্তা জোরদার করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশের অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভ আয়োজনের অভিযোগে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৭০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিক্ষোভে আম আদমি পার্টির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), এনএসইউআইসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা অংশ নেন। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অতিশী এবং কয়েকজন রাজনৈতিক ও ছাত্রনেতাও রয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন। তবে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের সত্যতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় সময় সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত যন্তর মন্তর এবং এর ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে।
এ ছাড়া বিক্ষোভস্থলের আশপাশের কেন্দ্রীয় দিল্লির একাধিক মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া বিভিন্ন সড়কেও ব্যারিকেড বসানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ কারণে কর্মসূচি ঠেকাতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বিভিন্ন স্থান থেকে বিক্ষোভকারীদের আটক করা হয়। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি সংগঠন দাবি করেছে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে চেয়েছিল।
যন্তর মন্তরে ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে জুলাইয়েও ওই এলাকায় একটি বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তিন মাসের ব্যবধানে একই এলাকায় আবারও এমন পদক্ষেপ নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসকে