ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের বাজারে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা বাড়ার খবরের পাশাপাশি ডিজেল সরবরাহ সংকট নিয়ে উদ্বেগ থাকায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক পর্যায়ে বেড়ে ১০০ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে যায়। দিনের লেনদেন শেষে ব্রেন্ট ৪ দশমিক ২৮ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৪৫ ডলার বেড়ে ৯২ দশমিক ৮৭ ডলারে ওঠে।
তবে শুক্রবার বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গেছে। সর্বশেষ লেনদেনে ব্রেন্টের দাম সামান্য কমে ১০২ দশমিক ২৮ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ৯২ দশমিক ৬৮ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের বাজারে মূল উদ্বেগ এখন সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর খবর এবং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। একই সময়ে চীন অক্টোবরে হংকং ও ম্যাকাও ছাড়া অন্যান্য বাজারে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার কিছু লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। সৌদি আরবের তেল পরিবহন কার্যক্রম পুনরায় বাড়ছে এবং অঞ্চলটির সামগ্রিক রপ্তানি প্রবাহও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে। ফলে একদিকে সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা, অন্যদিকে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দুই বিপরীতমুখী পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজার।
বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ইউরোপের জরুরি ডিজেল মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র চাপ দিচ্ছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের জ্বালানি রপ্তানি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে।
এ অবস্থায় ইরানকে ঘিরে সামরিক পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ কতটা স্বাভাবিক থাকে, তার ওপরই তেলের বাজারের পরবর্তী দিক নির্ভর করছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সূত্র: আল-জাজিরা
সদ্য সংবাদ/এসএস