মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় সামরিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু এলাকায় সেনাসদস্যের পাশাপাশি রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হবে।
বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ম্যাক্রোঁ বলেন, সৌদি সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় এসব সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল পাঠানো হবে। তবে ফরাসি বাহিনী সরাসরি কোনো সংঘাতে অংশ নেবে না; তাদের মূল দায়িত্ব হবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সৌদি আরবের তেল পরিবহনে ইয়ানবু একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে অঞ্চলটির জ্বালানি অবকাঠামো ও তেল রপ্তানি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে।
ম্যাক্রোঁ বলেন, পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে সৌদি আরবকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
এদিকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ইয়ানবু ছাড়াও দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা ইয়ানবুসহ কয়েকটি শহরের দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানি রপ্তানির বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত থাকায় লোহিত সাগর হয়ে তেল পরিবহনের পথটি রিয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এর আগে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তুরস্ক, পাকিস্তান ও মিসরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সৌদি আরবের আত্মরক্ষার অধিকার এবং আঞ্চলিক নৌপথ নিরাপদ রাখার গুরুত্বের কথা জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের নতুন এই পদক্ষেপে ইয়ানবুর মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তায় ইউরোপীয় সামরিক সহায়তার উপস্থিতি আরও বাড়ল। তবে প্যারিসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, ঘোষিত মোতায়েনের উদ্দেশ্য সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়া নয়, বরং সৌদি জ্বালানি স্থাপনার প্রতিরক্ষা জোরদার করা।
সদ্য সংবাদ/এসএস