আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির ওপর বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে আইসিসির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ আর্থিক লেনদেন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে নির্বাহী পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এবারের পরিকল্পনায় আইসিসির নির্দিষ্ট কোনো কর্মকর্তা নয়, সরাসরি পুরো প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হতে পারে। ফলে আদালটির অর্থায়ন, বিভিন্ন সেবা গ্রহণ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর প্রায় ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা রাখা হতে পারে। এরপর আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ আর্থিক ও বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সেটি হবে পুরো আদালতকে লক্ষ্য করে আরও বিস্তৃত পদক্ষেপ।
আইসিসির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধের অন্যতম কারণ ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধ নিয়ে আদালতের কার্যক্রম। ২০২৪ সালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি।
এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে আইসিসির তদন্তও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির অন্যতম বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, আদালতের এসব কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
সর্বশেষ মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে আইসিসিও। আদালতের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞাকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তবে সম্ভাব্য নতুন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে আগাম কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
নতুন পরিকল্পনা কার্যকর হলে আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ শুধু কয়েকজন কর্মকর্তা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং আদালতটির সামগ্রিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমও নিষেধাজ্ঞার আওতায় চলে আসতে পারে।
সদ্য সংবাদ/এসকে