যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া এক বক্তব্যে ভারতবিরোধী ও ‘দেশবিরোধী’ রাজনীতির সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। একই অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কাশ্মীরের অংশ একদিন ভারত পুনর্দখল করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কাশ্মীর প্রসঙ্গে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, বিভিন্ন স্থানে ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান শোনা গেলেও এর পরিবর্তে ‘ফ্রি পিওকে’ বা পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরকে মুক্ত করার স্লোগান দেওয়া উচিত।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যের সময় ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন তিনি। তার অভিযোগ, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে এবং বিভিন্ন ইস্যুতে বেছে বেছে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়।
ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গও তুলে ধরেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে ওই অভিযানে ভারতীয় বাহিনী বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে।
কাশ্মীরের স্বাধীনতার দাবিতে যারা স্লোগান দেন, তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে শুভেন্দু বলেন, ভারত ইতোমধ্যে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। ফলে ‘আজাদি’ স্লোগানের মাধ্যমে কী ধরনের স্বাধীনতার দাবি জানানো হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
যাদবপুর ক্যাম্পাসে বামপন্থী রাজনীতির প্রভাব নিয়েও সরব হন বিজেপির এই নেতা। আর্টস হোস্টেল এবং কথিত মাওবাদী নেতা কিষাণজিকে ঘিরে অতীতে ওঠা বিভিন্ন সমর্থনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন।
এ সময় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, তার দল দেশবিরোধী হিসেবে বিবেচিত শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না। তিনি আরও বলেন, তার নেতৃত্বাধীন সরকার একটি শক্তিশালী ও দেশপ্রেমিক প্রশাসন পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে মিছিলের প্রসঙ্গও বক্তব্যে উঠে আসে। এ ধরনের কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু তার রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।
বক্তব্যের শেষ দিকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেয়ালে লেখা কথিত ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এমন স্লোগান কেন দেওয়া হচ্ছে এ প্রশ্ন তুলে এ ধরনের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন শুভেন্দু।
সদ্য সংবাদ/এসএস