ব্যাংক ঋণ পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কয়েকজন উদ্যোক্তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কাজী মো. নজরুল হকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নতুন উদ্যোক্তাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দিয়েছেন এরফান হাইয়ুম নামের এক ব্যক্তি।
সম্প্রতি দেওয়া ওই ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়, মিরপুরের কয়েকজন উদ্যোক্তার কাছ থেকে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার পর ওই ব্যক্তি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছেন। পোস্টে তাকে ব্যাংক ঋণ-সংক্রান্ত পরামর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগও করা হয়েছে।
পোস্টে আরও দাবি করা হয়, কাজী মো. নজরুল হক নিজেকে এবি ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখার সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে পোস্টদাতার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ওই ব্যাংকে কর্মরত থাকলেও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে অতীতে ব্যাংকের চট্টগ্রাম শাখার ভল্ট থেকে অর্থ চুরির অভিযোগে চাকরি হারানোর দাবিও করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ওই ফেসবুক পোস্টে দেওয়া হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি ব্যাংক ঋণ-সংক্রান্ত পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন উদ্যোক্তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। ঋণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোফাইল তৈরি, প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন এবং ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করার কথা বলে তিনি উদ্যোক্তাদের আস্থা অর্জন করতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পোস্টদাতার দাবি, চট্টগ্রামেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ঢাকার মিরপুর এলাকায় কয়েকজন উদ্যোক্তার কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার পর তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজন ভুক্তভোগী আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে ওই পোস্টে। পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের আগে যথাযথভাবে পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে সতর্ক করে বলা হয়, ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ব্যক্তিকে আগাম অর্থ দেওয়ার আগে তার পরিচয়, প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র এবং ব্যাংকের সঙ্গে প্রকৃত সম্পর্ক যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কাজী মো. নজরুল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।