বাইরে থেকে দেখলে সাধারণ একটি বসতবাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ির ভেতরেই চলছিল অনুমোদনহীনভাবে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসুরক্ষা পণ্য তৈরির কাজ। অভিযোগ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের তুলা ও সাধারণ টিসু ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছিল স্যানিটারি ন্যাপকিন। পাশাপাশি শিশুদের নেবুলাইজার, ব্রেস্ট ফিডারসহ বিভিন্ন সার্জিক্যাল সামগ্রীও তৈরি করা হচ্ছিল সেখানে।
বগুড়া মহানগরীর ফুলদিঘী উত্তরপাড়া এলাকায় এশা এন্টারপ্রাইজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এসব অনিয়মের সন্ধান পায় র্যাব-১২ ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অভিযান সংশ্লিষ্টদের দাবি, নারীদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত স্যানিটারি ন্যাপকিনের মোড়কে উৎপাদনস্থল হিসেবে ধামরাইয়ের একটি ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে বাস্তবে বগুড়ার ওই বসতবাড়িতেই পণ্যটি তৈরি করা হচ্ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পণ্যটির কোনো বিএসটিআই অনুমোদনও পাওয়া যায়নি।
অভিযানকারীরা জানান, কারখানাটিতে স্বাস্থ্যসম্মত উৎপাদনব্যবস্থার কোনো পরিবেশ ছিল না। নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করে পণ্য প্রস্তুত এবং পরে সেগুলো মোড়কজাত করা হচ্ছিল।
বিশেষ করে স্যানিটারি ন্যাপকিন তৈরিতে নিম্নমানের তুলা ও সাধারণ টিসু ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারী ও শিশুদের ব্যবহারের জন্য এসব পণ্য বাজারজাত করা হলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক এমদাদুল হককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
র্যাব-১২-এর কোম্পানি কমান্ডার ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘জবা’ নামের যে স্যানিটারি ন্যাপকিনটি এখানে তৈরি হচ্ছিল, তার মোড়কে উৎপাদনস্থল হিসেবে ধামরাইয়ের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ পণ্যটি বগুড়ায় তৈরি হচ্ছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পণ্যটির বিএসটিআই অনুমোদনও ছিল না।
তিনি আরও বলেন, বসতবাড়ির আড়ালে এ ধরনের কারখানা পরিচালনার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব পণ্য ইতোমধ্যে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসানও অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জনস্বাস্থ্য ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় অনুমোদনহীন ও মানহীন পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লোকচক্ষুর আড়ালে বসতবাড়ি কিংবা ছোট কারখানার আড়ালে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়ে থাকলে তা নিয়মিত নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ব্যবহারের পণ্য তৈরিতে স্বাস্থ্যবিধি ও অনুমোদনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে অভিযান শেষে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শুধু কারখানা সিলগালা ও জরিমানাই নয়, বাজারে এসব পণ্য কীভাবে ছড়িয়েছে এবং আরও কোথাও একই ধরনের অনুমোদনহীন উৎপাদন চলছে কি না, তা নজরদারির আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস