এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০২৬ সালে সিরাজগঞ্জের সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল দাঁড়িয়েছে শূন্যে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া একজন পরীক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ফলাফলের এমন চিত্রের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে জবাবদিহি চাইতে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে পাঁচটি মাদ্রাসা, একটি টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ এবং একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মোট ৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শ্যামপুর কাজী ইসমাইল হোসেন আলিম মাদ্রাসার আটজন, রায়গঞ্জের আমসারা ইসলামিয়া দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসার ২১ জন এবং তেলিজানা আলিম মাদ্রাসার ১৫ জন পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের কেউই পাস করতে পারেননি।
এ ছাড়া তাড়াশ উপজেলার দোবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ১৪ জন এবং উল্লাপাড়া উপজেলার চন্দ্রগাতি আলিম মাদ্রাসার ১৪ জন পরীক্ষার্থীর ফলও একই। পাঁচটি মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হননি।
অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলী মোরগ্রাম টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ থেকে তিনজন এবং শহরের এসবি রেলওয়ে কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এই দুই প্রতিষ্ঠানের ফলাফলও শূন্য।
এসবি রেলওয়ে স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম জানান, কলেজে শিক্ষার্থী সংকট থাকায় এবার মাত্র একজন এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ওই শিক্ষার্থী একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির একজন পরীক্ষার্থীর অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা আছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাতটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল পর্যালোচনার বিষয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার জানান, যেসব প্রতিষ্ঠানের শতভাগ পরীক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, সেগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি ফলাফলের বিষয়টি যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস