জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ ডিসেম্বর দিন নির্ধারণ করেছেন।
ঢাকার ১৫তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ মাযহারুল ইসলাম এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন বরজিস শবনম বর্ষা, মো. মাহির রহমান ও ফারদিন আহমেদ আয়লান। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানিতে বর্ষার আইনজীবী এ এ মামুন রাসেল তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, মামলার ৪৪ জন সাক্ষীর কেউই জোবায়েদ হত্যায় বর্ষার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সাক্ষ্য দেননি। হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি কেনার জন্য অর্থ দেওয়া কিংবা জোবায়েদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পক্ষেও পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, আয়লান মাহিরের ডাকে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তাঁকে কেবল ভয় দেখানোর কথা বলা হয়েছিল, হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানানো হয়নি।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির হোসেন খান অভিযোগ করেন, তিন আসামি পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইশতিয়াক হোসেন জিপুও অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি দেন। তাঁর দাবি, হত্যার প্রায় এক মাস আগে থেকেই এ বিষয়ে পরিকল্পনা করেছিলেন আসামিরা।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে আয়লান ও মাহিরের পক্ষে সময় চেয়ে করা আবেদনও খারিজ করেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর রাজধানীর আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূরবক্স লেনের রোশন ভিলায় বরজিস শবনম বর্ষাকে পড়াতে গিয়েছিলেন জোবায়েদ। সেদিন বিকেল ৫টা ৪৮ মিনিটে তাঁর জুনিয়র সাইকাতকে বার্তা পাঠিয়ে বর্ষা জানান, জোবায়েদ স্যার খুন হয়েছেন।
এরপর সন্ধ্যা ৭টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কামরুল হাসান ফোন করে জোবায়েদের ভাই এনায়েত হোসেনকে হত্যার খবর দেন। পরে এনায়েত তাঁর ভগ্নিপতি শরিফ মোহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তাঁরা রক্তের চিহ্ন দেখতে পান। পরে ভবনটির তৃতীয় তলার সিঁড়ির কাছে জোবায়েদের মরদেহ উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর এনায়েত হোসেনের পক্ষে সাইকাত বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে হত্যাকাণ্ডের পেছনে ত্রিভুজ প্রেমের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপ শুরু হলো। আগামী ৯ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার এগোবে।
সদ্য সংবাদ/এজে