দেশের উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ব্যক্তি কিংবা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে ভালোবাসলে এবং বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাইলে ব্যক্তি বা দলের চেয়ে দেশকে বড় করে দেখতে হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে গোবিপ্রবি প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মসজিদে দোয়া এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা।
সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে টেনিস কোর্ট প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম।
সভায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রাখতে হবে। দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ৭ নভেম্বরকে জাতির আত্মপরিচয়, আত্মবিশ্লেষণ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গঠনের দিকনির্দেশনার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে আবির্ভূত হন। পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে দেশকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ডা. কে এম বাবর বলেন, সরকার ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে গোবিপ্রবিকে একটি মডেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়া সম্ভব।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মাদ আতাউর রহমান তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের সূচনার সঙ্গে যুক্ত করেন। তাঁর ভাষ্য, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সেদিন দেশে সংহতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. খসরুল আলম বলেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সংকটময় সময়ে সিপাহি-জনতার ঐক্য জাতিকে উত্তরণের পথ দেখিয়েছিল। দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্মসহ শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক পরিষদের সভাপতি ড. মাহবুব হাসান ও সাধারণ সম্পাদক ড. এস এম আহসান, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি দুর্জয় শুভ এবং সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বিদ্যুৎ।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
সদ্য সংবাদ/এজে