কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নরত নরসিংদী জেলার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আনন্দ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নরসিংদী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে নবীন বরণ, চড়ুইভাতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা মিলিত হন এক প্রাণবন্ত আয়োজনে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি নীলকুঞ্জ রিসোর্টে এ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সভাপতি আব্দুল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন পাঠান শৈকতসহ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নরসিংদীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আয়োজনের শুরুতেই নিজেদের মধ্যে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম আবর্তনের নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয় এবং তাদের হাতে স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এরপর সবাই একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
দুপুরের খাবারের পর শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা দিনটি উপভোগ করেন। পরে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে আয়োজনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
সংগঠনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পরিবেশে এসে শিক্ষার্থীদের নানা ধরনের বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে আবাসন, টিউশনি ও অন্যান্য বিষয়ে সিনিয়রদের সহযোগিতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জেলা অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন পাঠান শৈকত বলেন, কয়েক বছর বিরতির পর এবার নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার সময়ই নরসিংদী থেকে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে নিয়মিত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা ছিল। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানান তিনি।
সভাপতি আব্দুল্লাহ বলেন, জেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করাই সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি একে অপরের পাশে থাকার মাধ্যমে এই বন্ধন আরও দৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আয়োজনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দিনব্যাপী উৎসবের আমেজ দেখা যায়। নবীন ও সিনিয়রদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি নরসিংদীর শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে আয়োজকরা জানান।
সদ্য সংবাদ/এসএস