সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “আমি কাউকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাইনি। আশুগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক যেভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন—সেটির কথা বলতে গিয়ে আমি ওইভাবে দেখিয়েছি। আমার একটি কথিত অপরাধের জন্য তিনবার শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। যারা আগেই বায়াস্ট, এমন প্রশাসনের অধীনে আমি কীভাবে নির্বাচন করবো?”
তিনি নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ না থাকার অভিযোগ তুলে বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শোকসভার নামে স্টেজ বানিয়ে মাইক ব্যবহার করে সমাবেশ করছেন, গরু জবাই করে মানুষকে খাওয়াচ্ছেন, আমার বিরুদ্ধে অশালীন বক্তব্য দিচ্ছেন। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
শোকজ নোটিশের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, “আমি এই চিঠিটি ফেসবুক থেকে পেয়েছি। নির্ধারিত সময়ে আমার আইনজীবী গিয়ে জবাব দেবেন। নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই এ ধরনের চিঠি দেওয়া আচরণবিধি অনুযায়ী প্রশ্নবিদ্ধ।”
এদিকে প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে রুমিন ফারহানা ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। রবিবার বিকেলে সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ এলাকায় মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও সরকার যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। কাউকে ডান চোখে, কাউকে বাম চোখে দেখবেন না। ৫ আগস্টের কথা মনে রাখতে হবে। নিরপেক্ষতা না থাকলে যেকোনো আসনেই ৫ আগস্টের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবার প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন।
রুমিন ফারহানা জানান, সোমবার সকালে তিনি রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে চান—কার বিরুদ্ধে কত টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাকে কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর দেওয়া হয়নি।
এদিকে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রুমিন ফারহানাকে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় স্বশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার অনুপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে ‘মব সৃষ্টি’র অভিযোগ এনে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুবকর সরকার নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, সরাইল উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামে প্যান্ডেল করে বিশাল জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়, যা আচরণবিধি লঙ্ঘন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জুয়েল মিয়া নামে একজনকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় রুমিন ফারহানা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন ও হুমকিসূচক আচরণ করেন। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি মারমুখী আচরণ করলে সেখানে ‘মব’ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং বিচারিক কাজে বাধা দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর লিংকও চিঠিতে সংযুক্ত করা হয়।
রিটার্নিং অফিসারের কারণ দর্শানোর নোটিশে বলা হয়, রুমিন ফারহানা ৪০০–৫০০ লোকের উপস্থিতিতে বৃহৎ স্টেজ নির্মাণ করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। জনসভা বন্ধ করতে বলা হলে তিনি ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।