ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে দালালের জায়গা হবে না: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:২৯
বিএনপির অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে কোনো ধরনের দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, সরকার সরাসরি ৫০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেবে এবং এ কার্যক্রমে কোনো নির্দিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান যুক্ত থাকবে না। ফলে সুবিধাভোগীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো উপায়ে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের কোনো জনপ্রতিনিধিও যুক্ত থাকবেন না।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় এই কার্ড দেওয়া হবে না। গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে সময়ের আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান।

নির্বাচনের আগে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যে নয় দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক ইশতেহার ঘোষণা করেছিলেন, তার অন্যতম ছিল ফ্যামিলি কার্ড। নতুন প্রধানমন্ত্রীও বিভিন্ন জনসভা ও আলোচনায় এই কার্ডের বিষয়টি তুলে ধরেন। দলীয়ভাবে জানানো হয়েছিল, প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে এই কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এ সুবিধার পরিমাণ বাড়ানো হবে।

আলাপচারিতায় মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপি সরকারের প্রথম কাজই ছিল ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। সেই লক্ষ্যেই দায়িত্ব গ্রহণের দুদিন পর থেকেই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে সারা দেশের ৫০ লাখ পরিবারের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দিতে সরকারের ব্যয় হবে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই কর্মসূচিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হবে না এবং এখানে রাজনৈতিক ভেদাভেদ কিংবা তদবিরের সুযোগ থাকবে না।

মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, ঈদুল ফিতরের আগেই ফ্যামিলি কার্ড প্রণয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং তিনি নিজে সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও রয়েছেন।

ডা. জাহিদ হোসেন জানান, ফ্যামিলি কার্ডের জন্য একটি উপযুক্ত ডিজাইন ও সুবিধাভোগী নির্বাচনের পদ্ধতি নির্ধারণ, প্রাথমিকভাবে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় এই কার্ড চালুর উদ্যোগ, নারীদের বিদ্যমান কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয়ের সম্ভাবনা যাচাই, জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে ডিজিটাল পদ্ধতি প্রণয়ন এবং আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই কার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কমিটি আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

ভোটের আগে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে দুর্নীতির আশঙ্কা প্রকাশ করে সমালোচনা করেছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, এই কার্যক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা মহিলা ও শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন সমাজসেবা কর্মীরা যুক্ত থাকবেন। তারা জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের ভিত্তিতে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন। তবে কোনো জনপ্রতিনিধি কিংবা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ এতে সম্পৃক্ত থাকবেন না।

তিনি আরও বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিকাশ বা নগদের মতো কোনো নির্দিষ্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হবে না, যাতে একচেটিয়া সুবিধা সৃষ্টি না হয়। সুবিধাভোগীরা মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনো উপায়ে অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে এই কার্যক্রমে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর স্থান থাকবে না।

মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ড চালু হলেও বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির অন্যান্য ভাতাগুলো আগের মতোই বহাল থাকবে এবং নতুন এই সুবিধার কারণে কেউ পুরোনো ভাতা থেকে বঞ্চিত হবেন না।

অধ্যাপক ডা. এজেএম জাহিদ হোসেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বর্তমানে একসঙ্গে নারী ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ—এই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি দিনাজপুর-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রিসভায় স্থান পান।

দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা গ্রামে তার পৈতৃক বাড়ি। ১৯৬০ সালের ২৫ ডিসেম্বর তিনি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। গাজীপুরের শ্রীপুরের কাওরাইদ কে এন হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ১৯৮৩ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি দেশে ও বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি ও ফেলোশিপ অর্জন করে একজন খ্যাতনামা ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের সময় তার পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা দেশবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের দুবার নির্বাচিত মহাসচিব ছিলেন এবং দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর সদ্য. সাংবাদিক গ্রেপ্তারে লাগবে আদালতের অনুমতি সদ্য. জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন তারেক রহমান সদ্য. আগে কখনো এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল বিমানবন্দর দেখিনি; মন্ত্রীকে জানালেন যাত্রীরা সদ্য. সিটি গ্রুপকে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিতে আইন শিথিল সদ্য. গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে নিহত তৌফিকের দাফন সম্পন্ন সদ্য. আবারও জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ সদ্য. বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্পের পরাজয়ের খবরে বিশ্ববাজারে বাড়ল তেলের দাম সদ্য. দেশব্যাপী জামায়াতের জেলা ও মহানগর আমিরের নাম ঘোষণা সদ্য. রাজধানীতে ফুটপাত উচ্ছেদকালে ঘুষ লেনদেন, ম্যাজিস্ট্রেটকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর