সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে দুই ধাপের পরিকল্পনা বিবেচনা করছে সরকার। এর আগে তিন ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা থাকলেও কর্মচারী সংগঠনগুলোর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ধাপে ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হলে প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বেসিক বেতন শতাংশের ভিত্তিতে ভাগ করে ফিক্সেশন বা বেতন নির্ধারণ করা হলে দেশের সব সরকারি দপ্তরে ব্যবহৃত ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। এতে সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক বলেন, আগে হাতে বেতন নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ইএফটি এবং আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। ফলে ধাপে ধাপে বেসিক নির্ধারণ করলে সিস্টেমে নতুন করে সেটআপ দিতে হবে।
তিনি বলেন, প্রথম ধাপে যদি ৫০ বা ৬০ শতাংশ বেসিক কার্যকর করা হয়, তাহলে আইবাস ব্যবস্থায় নতুন কোড ও সেটআপ তৈরি করতে হবে। পরবর্তী ধাপে আবারও পরিবর্তন আনতে হবে, যা দেশের সব সরকারি দপ্তরে একসঙ্গে করা অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া।
তার মতে, ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর হলে একই কর্মচারীর জন্য একাধিকবার ফিক্সেশন করতে হবে, যা প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়াবে এবং সময়ের অপচয় ঘটাবে।
আব্দুল মালেক আরও বলেন, অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি শেষে চাকরি থেকে বিদায় নেওয়া কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে পারেন। কারণ নিয়ম অনুযায়ী চাকরি শেষে তাদের সব পাওনা একবারে পরিশোধ করা হয়। কিন্তু ধাপে ধাপে বেতন কার্যকর হলে পাওনা নির্ধারণ ও পরিশোধে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তিনি জানান, ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পাওনা ভাগ করে পরিশোধের সুযোগ নেই, ফলে বৈষম্য ও প্রশাসনিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে তিনি বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে বলেন, সরকার চাইলে নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে প্রথম ধাপে মূল বেতন শতভাগ কার্যকর করে ফিক্সেশন সম্পন্ন করা উচিত এবং দ্বিতীয় ধাপে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা কার্যকর করা যেতে পারে।
তার মতে, এভাবে বাস্তবায়ন করলে সফটওয়্যার পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না, বেসিক বেতন ভাগও করতে হবে না এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পাওনা নির্ধারণেও কোনো জটিলতা তৈরি হবে না।