শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে সৌদি আরবের জেদ্দায় ফিলিস্তিন ইস্যুতে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) নির্বাহী কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'বর্তমান অস্থিরতায় উত্তেজনা বাড়ানোর পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উচিত সংলাপের পথ বেছে নেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারে।'
খলিলুর রহমান জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে। আসন্ন ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের লক্ষ্যে প্রার্থিতা নিয়ে ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'মালদ্বীপ, পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিস্তিন ও সৌদি আরবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশকে সমর্থনের আশ্বাস পাওয়া গেছে। এসব বৈঠকে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর নেতৃত্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।'
ফিলিস্তিন সংকট প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, '১৯৬৭ সালের আগের সীমানা অনুযায়ী এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই এ নীতি অনুসরণ করে আসছে বাংলাদেশ এবং ভবিষ্যতেও এর ব্যত্যয় হবে না।'
ওআইসি বৈঠকেও ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সঙ্গত অধিকারের পক্ষে বাংলাদেশ জোরালো অবস্থান নিয়েছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, 'সফরের গন্তব্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে আমন্ত্রণ আসছে এবং কূটনৈতিক শিষ্টাচার অনুযায়ী যথাসময়ে তা ঘোষণা করা হবে।'
সবশেষে তিনি বলেন, 'বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এই আদর্শে পরিচালিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।'