পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ১৪ আগস্ট বিলোনিয়ার আমজাদনগরে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ঘাঁটিতে রান্নার জন্য রওনা হচ্ছিলেন মৃদুল। পথে পা পড়লে একটি পুঁতে থাকা মাইনে বিস্ফোরিত হয়। এতে তার ডান পায়ের দুই-তৃতীয়াংশ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি ভারতের বিলোনিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেন।
৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের আহত এই নারী এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বাইরে। তার স্বামী আনন্দ রায় শারীরিকভাবে অসুস্থ, সংসার চলে একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে। দুই ছেলে থাকলেও পরিবারের মধ্যে বিভাজন দেখা দেয়। বড় ছেলে ধর্মান্তরিত হয়ে পরিবারের থেকে বিচ্ছিন্ন, অন্য ছেলে অনিক রায় (২৪) বাবার পাশে রয়েছেন।
মৃদুল রাণী বলেন, 'মুক্তিযুদ্ধে পা হারানোর পর কেউ বিয়ে করতে চায়নি। ৪১ বছর পর বিয়ে হয়। অনেকের কাছে সহযোগিতা ও স্বীকৃতির জন্য গিয়েছি, কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি। কত মানুষ কত কথা বলেছে, কিন্তু কেউ কথা রাখেনি।'
ফেনী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আবু নাছের চৌধুরী বলেন, 'মৃদুল রাণীর বিষয়টি আমার জানা আছে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য প্রমাণপত্র গুরুত্বপূর্ণ। আহত হওয়ার সময়ের চিকিৎসা সনদ বা হাসপাতালের কাগজপত্র থাকলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব।'