এভাবেই কেটে গেছে দীর্ঘ ৫৫ বছর। অবিরাম পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর ঐতিহ্যের গল্প বুনে চলেছেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সাতখামাইর দৌলতপুর এলাকার মনিরুল ইসলাম, যিনি সবার কাছে পরিচিত কালা মিয়া নামে।
আজিমপুর সড়কের পাশে ছোট্ট একটি টিনশেড ঘর সেখানেই তার কর্মজীবনের ঠিকানা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় চারপাশ বদলে গেলেও তিনি বদলাননি। বিদ্যুতের সহজ পথ এড়িয়ে এখনো ভরসা রাখেন প্রাচীন কয়লার ইস্ত্রিতে। তার হাতে ইস্ত্রি করা কাপড়ে থাকে আলাদা এক যত্নের ছোঁয়া।
দিন শেষে যখন চারদিকে নেমে আসে অন্ধকার, তখনও থেমে থাকেন না কালা মিয়া। বিদ্যুতের আলো নয়, হারিকেনের মৃদু আলোয় চালিয়ে যান কাজ যা তার একাগ্রতা ও দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত।
কালা মিয়া জানান, আমি দীর্ঘ ৫৫ বছর ধরে কয়লার ইস্ত্রি আর হারিকেনের আলোয় জামাকাপড় ইস্ত্রি করে আসছি। এই কাজটাই আমার ভালো লাগে। এলাকাবাসী ভালোবেসে আমাকে কালা মিয়া নামেই ডাকে।
এলাকাবাসীর কাছে তিনি শুধু একজন ইস্ত্রিওয়ালা নন, বরং হারিয়ে যেতে বসা এক ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক। তাদের মতে, ইলেকট্রিক ইস্ত্রিতে কাপড় দুই-তিন দিন ভালো থাকে, কিন্তু কালা মিয়ার কয়লার ইস্ত্রিতে করা কাপড় ছয়-সাত দিন পর্যন্ত ঝকঝকে থাকে।
সময়ের স্রোতে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও কালা মিয়া এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন সেই পুরোনো দিনের ঘ্রাণ। তার এই দীর্ঘ পথচলা শুধু জীবিকার গল্প নয়, বরং পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য উদাহরণ।
সদ্য সংবাদ/এম এইচ হৃদয় খান