বুধবার (২২ এপ্রিল) অধিবেশনে স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে তারেক রহমান জানান, দেশের শহরাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় থাকা প্রায় ২০০টি সরকারি বহুতল ভবন স্বাস্থ্যসেবার কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ভবনকে দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ও মাতৃসদন ক্লিনিকে রূপান্তরের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানানো হয়।
স্বাস্থ্যখাতে সেবার পরিধি বাড়াতে ইউনিসেফের সহযোগিতায় হামের টিকা কার্যক্রম জোরদার করার কথাও উল্লেখ করা হয়। প্রায় দুই কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনার পাশাপাশি টিকা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয় কিট সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
কৃষি খাতে বড় ধরনের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে দেশের প্রায় ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা একসঙ্গে একাধিক সরকারি সেবা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষিযন্ত্রে ভর্তুকি, ন্যানো সার ব্যবহার এবং আধুনিক কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানানো হয়।
জনপ্রতিনিধিদের ব্যয়সংকোচন নীতির অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট সুবিধা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। তবে সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষাখাতে চলতি অর্থবছরে দুই লাখ শিশুকে বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, জুতা ও পাটের ব্যাগ বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনের শাসন, মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
এছাড়া সার সরবরাহে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা সিন্ডিকেট গঠনের চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় সংসদে।