বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন প্রভাবভিত্তিক গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্প নির্ধারণ করে ফলাফল অর্জনে গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সরকার বহন করতে সক্ষম বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৯ জুন) ঢাকার বিজয় সরণিতে নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে নভোথিয়েটারের সম্মেলন কক্ষে “২০২৪-২৫ অর্থবছরে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএসডি) প্রকল্পসমূহে অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালকদের গবেষণা কার্যক্রম অবহিতকরণ বিষয়ক সেমিনার-২০২৬” শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি ভিয়েতনামের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ভিয়েতনাম ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে আমাদের থেকে অনেক পিছিয়ে ছিল। কিন্তু প্রযুক্তি ও গবেষণায় জোর দেওয়ার ফলে তারা আজ অনেক এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের কোনো বিকল্প নেই।
সচিব আরও বলেন, যেসব সেক্টরে তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে, সেসব খাতে গবেষণা করে তা কাজে লাগাতে হবে। গবেষণার ফলাফল জনকল্যাণে ব্যবহার করে কীভাবে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়, সেটি গবেষকদের সবসময় মনে রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মুহম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল বাসেত প্রমুখ।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মাহমুদা সুলতানা, রিসার্চ পলিসি ডিপার্টমেন্ট, এপেক্স ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
এ সময় প্রকল্প পরিচালক ও গবেষকদের মধ্য থেকে পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিস্ট ড. রোকেয়া বেগম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক মো. ইলিয়াস এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের গবেষক টুম্পা সাহা প্রমুখ।
গবেষণাপত্র উপস্থাপন শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে গবেষকরা সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
উল্লেখ্য, বিজ্ঞানমনস্ক জাতি গঠন ও বিজ্ঞান শিক্ষাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় প্রতি বছর দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের মধ্যে প্রযুক্তি উদ্ভাবন, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক (আরএসডি) প্রকল্পসমূহে অনুদান প্রদান করে। সরকারের এ অনুদান পেয়ে গবেষকরা প্রতি বছর বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করেন এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপর প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে জমা দেন।