জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র কেনা ও মজুত নিয়ে কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সোনারগাঁয়ের বিএনপি নেতা বজলুর রহমান ওরফে ‘ডন বজলু’সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) র্যাব সদর দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদে বার্তায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব জানায়, নারায়ণগঞ্জ ও সোনারগাঁ এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বজলুর রহমান স্থানীয়ভাবে ‘ডন বজলু’ নামে পরিচিত। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। পরবর্তী সময়ে নিয়মিত তল্লাশিচৌকিতে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
বজলুর রহমানের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন সাইদুল (৩৪), আব্দুল জব্বার (৪৩) এবং নাজমুল হকের ছেলে ইউনুস বাঁধন (২০)। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সবাই বজলুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
এর আগে ২৩ জানুয়ারি সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি বজলুর রহমান তার সমর্থকদের সঙ্গে একটি স্থানীয় রেস্তোরাঁয় অবস্থান করছিলেন। সেখানে কথোপকথনের এক পর্যায়ে নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁ এলাকায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র মজুতের কথা বলা হয়। ভিডিওতে একজনকে বজলুর রহমানের কানের কাছে গিয়ে নির্বাচনের জন্য আরও দুটি অস্ত্র প্রয়োজন বলে বলতে শোনা যায়। ওই কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নারায়ণগঞ্জ জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
র্যাব-১১-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈম উল হক জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে। তবে বজলুর রহমান কোনো অভিযানে নয়, বরং র্যাবের বসানো নিয়মিত তল্লাশিচৌকিতে আটক হন।
এর আগেও বন্দর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউর রহমান মুকুলের ওপর হামলার ঘটনায় আলোচনায় আসেন বজলুর রহমান। ওই হামলায় তার নির্দেশে অনুসারীরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই ঘটনার মামলায় আসামি হওয়ার পর উপজেলা বিএনপি বজলুর রহমানকে বহিষ্কার করলেও পরে কেন্দ্রীয়ভাবে বহিষ্কারাদেশ অনুমোদন না পাওয়ায় তা কার্যকর হয়নি বলে জানান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন।
বজলুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়ে মোশারফ হোসেন বলেন, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের খবর তারা শুনেছেন এবং এ ঘটনায় দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।