নারায়ণগঞ্জ শহরের অন্যতম দুর্ধর্ষ অপরাধী ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মোঃ তানভীর (২৩)
অবশেষে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১১ এর চৌকস আভিযানিক দলের হাতে
গ্রেফতার হয়েছেন। বিভিন্ন হত্যা, মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং পুলিশের উপর হামলাসহ
মোট ১২টি মামলার পলাতক আসামি তানভীরকে ১৯ জুন ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যায় সদর থানাধীন
জিমখানা বস্তি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তানভীর
শুধু একজন দুর্ধর্ষ মাদক ব্যবসায়ীই নন, বরং স্থানীয়ভাবে একক আধিপত্য বিস্তারকারী
সন্ত্রাসী হিসেবেও কুখ্যাত। তার নিয়ন্ত্রিত মাদক সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ
শহরের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় ছিল। এসব অপরাধের কারণে সাধারণ জনগণ আতঙ্কে ছিল এবং
তানভীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে কেউই সাহস করত না।
গত ১৪ মে
২০২৫ তারিখ রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন জিমখানা এলাকার রাসেল পার্কের পাশে সংঘটিত
এক নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে
কথাকাটাকাটির জেরে ভেলকি মাহিম (১৪) এর নেতৃত্বে কয়েকজন দুর্বৃত্ত মিলে এক যুবককে
নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। নিহত যুবক ছিলেন রাসেল পার্ক এলাকারই বাসিন্দা, যিনি
স্থানীয় স্বপন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন।
ঘটনার পর
ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১৩/৭৯,
তারিখ-১৫ মে ২০২৫, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড)। মামলায় আসামি হিসেবে মাহিম, নাঈম
আহমেদ, প্যাকেজ ফাহিম, সাঈম এবং আরও অজ্ঞাত ৫/৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্তে
জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।
হত্যা
মামলার তদন্তে র্যাব-১১ এর গোয়েন্দা টিম ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে,
তানভীর শুধু ওই হত্যাকাণ্ডেই জড়িত ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন এই দলের অন্যতম
পরিকল্পনাকারী। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও, পুরো হামলার পরিকল্পনা ও
নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন।
র্যাবের
এক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, “তানভীর দীর্ঘদিন ধরে নারায়ণগঞ্জ শহরের জিমখানা বস্তি
এলাকার অপরাধজগত নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। তার নামে শুধু সদর থানায়ই নয়, আশপাশের
থানায়ও একাধিক মামলা রয়েছে।”
২০২৪
সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার একটি আভিযানিক দল জিমখানায় অভিযান চালাতে
গেলে, তানভীর ও তার সহযোগীরা পুলিশ দলের উপর হামলা চালায়। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য
আহত হন। ওই হামলার মূল নেতৃত্বে ছিলেন তানভীর।
তানভীরকে
গ্রেফতারের জন্য র্যাব-১১, সিপিসি-১ নারায়ণগঞ্জ কর্তৃক গোপন তথ্য ও প্রযুক্তির
সহায়তায় পরিকল্পিত অভিযান চালানো হয়। অবশেষে ১৯ জুন ২০২৫, সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে
তাকে জিমখানা বস্তির একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন র্যাব-১১
এর একটি চৌকস দল।
র্যাব-১১
জানায়, তানভীরের বিরুদ্ধে বর্তমানে ১২টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে— হত্যা
মামলা, হত্যা চেষ্টা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, অস্ত্র আইন, পুলিশ হামলা, ও প্রতারণাসহ
বিভিন্ন অপরাধ। এসব মামলার অধিকাংশই বর্তমানে বিচারাধীন এবং বেশ কিছু মামলায় সে
পলাতক ছিল।