হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৩টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৪ জন শিশু, আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বাকিরা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালের ৮ তলায় ৬৪ শয্যার একটি পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। সেখানে তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ২১টি নতুন শিশুর ভর্তি হওয়ার বিষয়টিও তিনি নিশ্চিত করেন।
জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফয়সল আহমেদ বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা এখনো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৮০ শতাংশই ৯ মাসের নিচে বয়সী, যাদের এখনো হামের টিকা নেওয়ার সময় হয়নি। এছাড়া আক্রান্তদের মধ্যে ১০ শতাংশ এক ডোজ এবং ১০ শতাংশ দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিশু রয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত বছর থেকে বিভিন্ন ধরনের টিকার সংকট রয়েছে। বর্তমানে হাম ও বিসিজি ছাড়া অন্য কোনো টিকা মজুত নেই। উপজেলার কোথাও টিকা আছে, কোথাও নেই—এমন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের দীর্ঘদিনের কর্মবিরতির কারণেও টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে, যার প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।