মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ঠেলে দেওয়া দুই পরিবারের ছয় সদস্যের হদিস মিলছে না। তবে বিজিবির দাবি, বিএসএফই তাদের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতের কোনো একসময় তাদের সীমান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নিখোঁজ ওই ছয়জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে।
সীমান্তবর্তী সূত্র ও বিজিবি জানায়, শনিবার ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত দিয়ে ওই ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পেরে এবং বিএসএফের বাধায় ভারতেও ফিরতে না পেরে তারা সীমান্তঘেঁষা কাঁটাতারের বেড়ার পাশে ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি পাটখেতে অবস্থান নেন।
শনিবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। মানবিক কারণে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করে। এ সংকট নিরসনে বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুরাহা মেলেনি। নিরুপায় হয়ে ওই দুই পরিবারের সদস্যরা সীমান্তের মাঠেই রাতযাপনে বাধ্য হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের সাধারণ মানুষও সীমান্তে পাহারা দেন। তবে রাত তিনটার পর থেকে কাঁটাতারের পাশে অবস্থান নেওয়া ওই ছয়জনকে আর সেখানে দেখা যায়নি। তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন, নাকি ভারতে ফেরত গেছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নূরুল হুদা বলেন, ‘রাত তিনটার পর থেকে তাদের আর সীমান্তে অবস্থান করতে দেখা যায়নি। আমাদের ধারণা, গভীর রাতে বিএসএফই তাদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।’
বর্তমানে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পুশ-ইন ঠেকাতে বিজিবি ওই এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করেছে বলে জানান তিনি।