ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্থানীয় সময় গভীর রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখারচি এ দাবি করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপিত সবগুলো সামরিক ঘাঁটিই ইরানের শক্তিশালী বাহিনী ধ্বংস করেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ঘাঁটি ও সেনাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৩ জুন ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে শেখারচি বলেন, ওই সংঘাতের পর ইরান তাদের প্রতিরক্ষা নীতি আরও আক্রমণাত্মকভাবে পুনর্গঠন করেছে। তবে তিনি দাবি করেন, ইরান গত ৪৭ বছরে কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও আগ্রাসন চালাবে না। তার ভাষ্য, কোনো দেশ ইরানের ওপর হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং শত্রুকে শাস্তি না দেওয়া পর্যন্ত সেই প্রতিক্রিয়া চলবে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। শেখারচি বলেন, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে প্রণালির পরিস্থিতি আগের মতো থাকবে না এবং ইরান কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছে, যা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে মেনে চলতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিরাপত্তার অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেছে।
আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীকে আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করা উচিত। একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে বিদেশি শক্তিকে সহায়তা করা হলে তার পরিণতি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ভোগ করতে হবে।
ইরানের এই দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।