মালদ্বীপের ৬১তম স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানী মালের রিপাবলিক স্কয়ারে অনুষ্ঠিত স্বাধীনতা দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি মালদ্বীপ সরকারের বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, অনুষ্ঠানে পৌঁছালে ড. খলিলুর রহমানকে স্বাগত জানান মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম। স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোর্সের (এমএনডিএফ) বিভিন্ন ইউনিটের বর্ণাঢ্য মার্চপাস্ট ও সামরিক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এতে দেশটির শৃঙ্খলা, ঐতিহ্য এবং জাতীয় গৌরবের প্রতিফলন ঘটে।
কুচকাওয়াজ শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মালদ্বীপের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে মনোমুগ্ধকর আতশবাজির মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
এর আগে একই দিন সকালে রাজধানী মালের লোনুজিয়ারাই পার্কে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর উদ্যোগে পরিচালিত ‘ফাইভ মিলিয়ন ট্রিজ প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি ক্রিস্টিনা (Syzygium campanulatum) গাছের চারা রোপণ করেন ড. খলিলুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরুথিশাম আদম এবং দেশটির জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও জ্বালানি বিষয়ক মন্ত্রী আলী শরীফ।
এ সময় ড. খলিলুর রহমান প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুর সবুজায়ন উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টেকসই পৃথিবী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের অভিন্ন অঙ্গীকারই দুই দেশের এই উদ্যোগে প্রতিফলিত হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে বিপুলসংখ্যক নিমগাছ রোপণের বিষয়টিও স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই গাছগুলো বর্তমানে ‘জিয়া ট্রিজ’ নামে পরিচিত।
মালদ্বীপ সরকারের আমন্ত্রণে দেশটির ৬১তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নিতে বর্তমানে দেশটি সফর করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।