জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা মা-বোনদের রাস্তায় দেখলে কাপড় খুলে ফেলার হুমকি দেয়, তারা মানব প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত নয়। নির্বাচনের আগে যারা এমন ভাষা ব্যবহার করতে পারে, নির্বাচনের পর তারা কী করতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। সকালে সূর্য যেমন দিনের গতিপথের ইঙ্গিত দেয়, তেমনি তাদের বক্তব্যই নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের পক্ষে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ইনশাআল্লাহ তাদের অঙ্গীকার বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের অসংখ্য বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে, কিন্তু কোনো প্রভু থাকবে না। বাংলাদেশের আকাশের নিচে ও মাটির ওপর সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। তিনি অভিযোগ করেন, সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান ও দেশের আঠারো কোটি মানুষের ওপর জুলুম চালানো হয়েছে। বস্তাপচা রাজনীতির বন্দোবস্ত আর চলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। শফিকুর রহমান বলেন, যারা লুটপাট, খুন, অর্থ পাচার করে বিদেশে বেগম পাড়া গড়েছে, তারাই দেশকে বিপদের মধ্যে ফেলেছে।
৫ আগস্টের পরেও অনেকের চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে ৫৪ বছরের বাংলাদেশে সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতির দম্ভ, ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুটের চিত্র দেখা গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, মা-বোনদের ইজ্জত ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং যুবকদের হত্যা করা হয়েছে। একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী ও একটি দলের বাইরে বাকিদের দেশের ভাড়াটিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, ৫ তারিখের পর কেউ কেউ আত্মসমালোচনায় ফিরলেও অনেকের আচরণে কোনো পরিবর্তন আসেনি। নির্বাচনের সামনে রেখে কেউ কেউ অবাস্তব প্রতিশ্রুতি ও ‘সোনালী কবিতা’ শোনাবে বলেও তিনি দাবি করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, তারা এমন কোনো অলীক অঙ্গীকার করবেন না, যা বাস্তবায়নের সক্ষমতা সরকারের নেই। তবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করাকে সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। সন্তানের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সারাজীবন রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য কাজ করা মানুষের বার্ধক্যের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে বলেও তিনি জানান। বিশেষ করে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের চিকিৎসা বিনামূল্যে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার মতে, একটি জাতিকে সুস্থ ও সবল করে গড়ে তুলতে না পারলে উন্নত জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।