ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ফুটবল টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে একই দিনে দুই দফা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই সাংবাদিকসহ মোট ১৪ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর বিকেলে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়ান। পৃথক দুই ঘটনায় ফার্মেসি বিভাগের আহতদের বাদ দিয়ে অন্তত ১২ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ছাড়া তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তিন সাংবাদিক আহত ও ধাক্কাধাক্কির শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার পর ফুটবল টুর্নামেন্ট স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে প্রথম সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মুখোমুখি হয় হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগ। খেলায় ইতিহাস বিভাগ এক গোলে এগিয়ে ছিল। খেলা শেষ হওয়ার এক মিনিট আগে বল থ্রো-ইনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও চেয়ার নিয়েও দুই পক্ষকে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির এবং হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের আলিফ রাহাত (২০২৪-২৫), আলিফ খান (২০২৪-২৫), তোফাজ্জল (২০২৪-২৫) ও আবু রায়হান (২০২৫-২৬) আহত হন। আহতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা নেন। বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার থেকে পাঁচজনের চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটি ও দৈনিক অর্থ সংবাদের ইবি প্রতিনিধি জুবায়ের হাসানকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার ও আহরারসহ কয়েকজন তাঁর সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করেন এবং ভিডিও ধারণ ও তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন।
সংঘর্ষে আহত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তর্কের একপর্যায়ে আমাকে পেছন থেকে ঘাড় ধরে ফেলে দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে আমার নাক ও মুখ ফেটে যায়।’
এ বিষয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সবুর বলেন, ‘আমরা সব বিষয়েই ব্যবস্থা নেব। তবে এখন একটু ব্যস্ত আছি।’
সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত। প্রো-ভিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করে মেডিকেলে যাচ্ছি। এ বিষয়ে পরে জানাব।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. বদিউজ্জামান বলেন, ‘শুরুতে কয়েকজন এসে খেলাধুলায় আহত হয়েছে বলে জানালে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে জখম ও আঘাতপ্রাপ্ত মিলিয়ে মোট পাঁচজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজন চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। তিনজনকে ইনজেকশন দিয়ে এখনও চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।’
সকালের ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘খেলা প্রায় শেষের দিকে ছিল। বল আউট হওয়া নিয়ে তর্কাতর্কি হয়। দ্রুত ঘটনাস্থলে প্রক্টরিয়াল বডি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। দুই বিভাগ বিষয়টি মেনে নিয়েছে। ঝামেলা সমাধান হয়েছে।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে একই মাঠে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষে জড়ান বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খেলা চলাকালীন ফার্মেসি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী নিয়মবহির্ভূতভাবে মাঠে প্রবেশ করেন এবং স্লেজিং করেন। এতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ ঘটনায় বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রায় সাতজন শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফার্মেসি বিভাগের আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষের সময় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে ইবি রিপোর্টার্স ইউনিটির দপ্তর সম্পাদক ও ফেস দ্যা পিপলের প্রতিনিধি এস. এম. শাহরীয়ার স্বাধীন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ও দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের ইবি প্রতিনিধি মো. মিনহাজুর রহমান মাহিম আহত হন। পরে তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নেন।
বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি ড. মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিভাগের বহু সংখ্যক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। একজনকে ইবি মেডিকেল থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
ফার্মেসি বিভাগের সভাপতির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘প্রো-ভিসি স্যার টুর্নামেন্ট কমিটির সভাপতি। তাঁর সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টুর্নামেন্ট আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।’
সদ্য সংবাদ/ এআর