বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, 'এখন পর্যন্ত মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমরা অভিযান চালাচ্ছি, তবে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।'
তবে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মামলার আসামিদের এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। কয়েক বছর আগের ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে পীর আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এর জেরে শনিবার সকালে দৌলতপুরের ফিলিপনগর এলাকায় শতাধিক মানুষ জড়ো হয়। দুপুরের দিকে তারা পীরের দরবারে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলাকারীরা শামীমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার পর সোমবার রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য।
এ ছাড়া মামলায় আরও তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন: দৌলতপুর উপজেলার হোসেনাবাদ (বিশ্বাসপাড়া) গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগরের রাজীব মিস্ত্রী (৪৫) এবং ইসলামপুর গ্রামের মো. শিহাব। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, ফিলিপনগরের এই ঘটনা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ নয়। সংগঠনটির আমির বেলাল উদ্দীন ও সেক্রেটারি আবদুল্লাহ আল নোমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো নেতা-কর্মী জড়িত নন। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে দলটিকে জড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও দাবি করা হয়।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।